পার্সেলের ভিতরে একজনের ছবি আছে তাকে খুন করতে হবে।  পাঁচ লাখ টাকা এ্যান্ডভার্স দিয়েছি বাকিটা কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে পার্সেল পেয়ে যাবে। আমি কিছু না ভেবেই পার্সেল টা খুলছি আর ভাবছি আজ-কাল তো একজন মানুষ মারতে এক লাখ টাকাই বেশি।  সেখানে দশ লাখ টাকা।  ভাবতে ভাবতে পার্সেলটা খুলে ফেললাম। পার্সেলের ভিতরে একটা ছবি।  ছবিটা দেখে চমকে গেলাম! শরীরটা ঘেমে যাচ্ছে।  কারণ পার্সেলের ভিতরে ছবিটা যে অন্য কারো নয় আমার। বুঝতেছি না কি গোলকধাঁধায় পড়লাম।  আমাকে খুন করার জন্য আমাকেই কে টাকা দিবে।  কিছু মাথায় আসছে না।  এ দিকে রুদ্ধকে হারিয়েও খারাপ লাগছে।  ছেলেটা খুব বিশস্ত ছিল।  


- বস কি হয়েছে আপনি এমন ঘামছেন কেন?

- এলিক্সের কথায় তার দিকে তাকালাম।  এলিক্স কিছু লুকাচ্ছে মনে হয়!  

- কিছু বলবে এলিক্স? 

- স্যার শহরে কি সত্যিই পেত্মাতারা আসছে?পুলিশের কাছে শুনলাম,  কাল রাতে আমাদের টিমের যে দশজন সদস্য মারা গিয়েছিল,  সবারি মাথা পাওয়া যাচ্ছে না।  সাথে সবার যৌনাঙ্গও কেটে ফেলেছে। স্যার আমার কিন্তু ভয় করছে।  


- চুপ করো!  ভূত বলতে কিছু আছে নাকি? শোন তোমাকে কি করতে হবে সেটা আমি তোমাকে জানিয়ে দিবো। আপাদত কয়েকদিন আমাকে ফোন দিয়ো না।''


-বাসায় এসে বসে বসে ভাবছি কে আমাকে খুন করার জন্য পার্সেল পাঠালো।  হঠাৎ,  কথা আমার পাশে বসে বলল,' কি হলো কখন আসলে? খেয়েছ  কিছু?

-না খায়নি,  খাবার রেডি করো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।  


- এদিকে ফ্রেশ হয়ে এসে কথা আর আমি দুজনেই খাবার খেয়ে নিলাম।  খাওয়া শেষে কথাকে বললাম,' আজ আমরা বেড়াতে যাবো। ''


- কি সত্যি বলছো? কিন্তু আমার না ভয় করে।  


- আশ্চর্য ভয় পাওয়ার কি আছে আমি আছি না?

- আচ্ছা ঠিকআছে। এদিকে কথাকে নিয়ে সারাদিন ঘুরলাম।সন্ধ্যায় এক রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে কেমন যেন খটকা লাগল।  মনে হচ্ছে এখানে ক্যাশে যে ছেলেটা বসে আছে।  সেই ছেলেটাকে কোথায় যেন দেখেছি হঠাৎ মনে পড়ল,  ছেলেটাকে কথার সাথে হোটেলে ঢুকতে দেখেছি।  কিন্তু সেটা তো কথা ছিল না।  আর হোটেলটাও হোটেল ছিল না।  বুঝতেছি না কি হতে যাচ্ছে। কথাকে কিছু বুঝতে না দিয়েই খাওয়া শেষ করে বাসায় এসে পরলাম।  


- রাতে শুয়ে আছি, কথা বাথরুমে গেছে। হঠাৎ কথা চিৎকার দিয়ে উঠল।  কথার চিৎকারের সাথে সাথেই বাড়ির সমস্ত লাইট অফ হয়ে গেল।  মনে মনে বললাম লোড শেডিং হওয়ার বুঝি আর সময় পেল না। 


- কথা চিৎকার দিয়ে ডাকছে আর বলছে রাজ আমাকে বাঁচাও আমাকে মেরে ফেলল!  

- কথার চিৎকার শুনে মোবাইলটা খুঁজতে লাগলাম।  কারণ অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু মোবাইলটা পাচ্ছি না। অামি অন্ধের মতো কোন রকম রুম থেকে বাহির হতেই চমকে গেলাম।  পাশের বাসায় বিদ্যুৎ রয়েছে।  কথার কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।  


- হঠাৎ সারা বাড়ি আলোকিত হয়ে উঠল।  কথাকে দেখলাম,  বাথরুমের বাহিরে পড়ে আছে। দৌড়ে কথার কাছে ছুটে গেলাম। দেখলাম কথা সেন্সলেন্স হয়ে গেছে।  তার পরণে কাপড়ের ঠিক নাই।  গায়ের কাপড় ছেড়া।  গলায় আচড়ের দাগ।  জেসিরে ডাক দিয়ে পানি আনতে বললাম।  


- জেসি কয়েকবার ডাক দিলাম কিন্তু কোন রেসপন্স আসছে না।  কথাকে রেখে জেসির রুমে গেলাম।  দরজা ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেল।  জেসি তার রুমে টেলিভিশন দেখছে। আমাকে দেখেই বললো,' ভাইয়া কি হয়েছে আপনি এতো রাতে আমার রুমে?''

- তোমাকে কখন থেকে ডাকছি কিছু শুনতে পারছ না?''


- কখন ডাকলেন ভাইয়া? আর আমি তো টিভি দেখছিলাম।  টিভি দেখছিলি ভালো কথা কিন্তু কথা যখন বাঁচাও বাঁচাও করে ডাকলো,  তখন শুনোনি? তখন তো কারেন্ট ছিল না তোমার তো শোনার কথা?


- কি বলছেন ভাইয়া কারেন্ট তো যায়নি? সে সন্ধ্যা থেকেই আছে।  আর কথা ম্যাডামের কোন কথা শুনতে পারিনি?

- কারেন্ট না কিছুক্ষণ আগে চলে গিয়েছিল? 

- কই না তো।  

- রাজ বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে।  এবার তার সত্যিই ভয় করছে।  মনে হচ্ছে পেত্মাতারা সত্যি এসে গেছে।  


- রাজ কোন কথা না বলে জেসিকে তার সাথে আসতে বললো।  জেসি কথাকে ফ্লরে পড়ে থাকতে দেখে চমকে উঠলো। রাজ কিছু না বলে, ' হাতে থাকা পানির বোতল থেকে একটু পানি কথার চোখে ছিটিয়ে দিতেই কথা চোখ খুলেই রাজকে জড়িয়ে ধরে বললো,' রাজ আমাকে বাঁচাও ওই ডাইনীটা আমাকে মেরে ফেলবে।  আমাদের সন্তানকে পৃথিবীতে আসতে দিবে না। ''


- কি বলছো এসব? আর কোন ডাইনীটা? 


- এখানেই তো ছিল ইয়া বড় বড় দাঁত,  চুলগুলো মাটিতে পড়ে। নোখ গুলো ধাঁরালো ছুরির মতো।  রাজ ও আমাকে মেরে ফেলবে।  


- কথা প্লিজ শান্ত হও তোমার কিছুই হবে না। তুমি না আমার বুকে।  ভয় পেয়ো না।  কথাকে নিয়ে রুমে এসে পড়লাম।  


- বিছানায় শুয়ে আছি।  কথা ছোট্ট বাচ্চার মতো আমাকে আঁকড়ে ধরে আছে। কথার কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে হাত ভুলিয়ে দিচ্ছি।  আর মনে মনে ভাবছি।  একি বাসা,  আমি কথার চিৎকারের শব্দ শুনলাম।  কিন্তু জেসি শুনলো না।  সত্যিই কি ভূত আমাদের উপর ভর করলো?


- এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায়।  রাতে এক ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙে যায়।  কথা এখনো আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে।  


- পরের দিন এলিক্সের ফোনে ঘুম ভাঙল।  এলিক্স বললো,'বস আজ আমার বিয়ে আপনি যদি পরিবার সহ আসতেন তা হলে ভালো হতো। '' 


-এলিক্সকে বললাম আমি আসবো তুমি কোন চিন্তা করো না।  সন্ধ্যায় কথাকে নিয়ে এলিক্সের বিয়েতে যায়।  বিয়ে শেষ করে বাড়ি রওয়ানা দিতে রাত বারোটা বেজে যায়।  ড্রাইভারকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম।  হঠাৎ কিছুদূর যেতেই এক লোক ইশারা দিয়ে বললো,'স্যার সামনে রাস্তায় মেরামত চলছে।  আপনি এ রাস্তা দিয়ে যান।  

-ড্রাইভার লোকটার দেখানো রাস্তা দিয়েই গাড়ি চালাতে লাগলো।  সেদিনের মতো আজও,  গাড়িটা মাঝ রাস্তায় এসে বন্ধ হয়ে গেল।  ড্রাইভারকে বললাম কি হয়েছে? গাড়ি থামালে কেন?

- বস গাড়ি বন্ধ হয়ে গেছে স্টাটাট নিচ্ছে না। হঠাৎ রাজ বাহিরের দিকে তাকালো।  বাহিরে তাকাতেই বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠলো! বাহিরে তাকাতেই সামনে রংমহল আবাসিক হোটেল নামটা চোখের সামনে ঝলমল করে ওঠলো।  সেদিনের হোটেলটাই তো।  কথা রাজকে বললো,' কি হলো বাহিরে তাকিয়ে আছো কেন? না কিছু না এমনি দেখছি। ও আচ্ছা।  হঠাৎ  হোটেলের সামনে গাছটার আমার দলের দশজন সদ্যসের কাটা মাথা ঝুলানো।  গলাটা কেমন যেন শুকিয়ে যাচ্ছে।  কথাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম।  কারণ কথা এসব দেখলে ভয় পাবে। 

- কি হলো এমন করছো কেন? সামনে ড্রাইভার আছে তো?

- ড্রাইভার আছে তো কি হয়েছে? আমার বউকে ধরেছে। 

- এমন সময় গাড়ি স্টার্ট নিল।  ড্রাইভার আমার দিকে কেমন ভর্য়াত দৃষ্টি নিয়ে তাকালো।  ড্রাইভারকে ইশারা দিয়ে বুঝালাম কথা যেন কিছু না বুঝে। 


- বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে শুয়ে পড়লাম। এখনো চোখের সামনে বির্ভষ চেহারাটা ভাসছে।  


সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো,  জেসির চিৎকারে।  জেসি দৌড়ে এসে বললো,' ভাইয়া কালকে যে আপনারা যার বিয়ে খেয়ে আসলেন।  তাকে নাকি পেত্মাতারা মেরে ফেলছে।  ফুলশর্য্যা বিছানায় নাকি তার দেহ আর মাথাটা নাকি নিশি পুরের সে ভুতূরে বাড়ির গেটের সামনে ছিল।  দেখে যান টিভিতে দেখাচ্ছে। 


- জেসির কথা শুনে শরীরটা অবশ হয়ে আসছে।  আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কথা মাথা ঘুরে পড়ে গেল।  


চলবে'''''':''''''


-