গল্প- মৃত্যুর_ডাক

পর্ব-০৫ 

-------------------

এ ছিলো কক্সবাজার হানিমুনের ঘটনা। যেটা রিয়াজ জানে। চলুন, আবার ব্যাক করা যাক। রিয়াজের অজান্তে কি হয়েছিলো তা শুনা যাক৷ তবে সংক্ষিপ্ত। 


যেদিন রিয়াজ আর তাজকিয়া কক্সবাজার আসে। ঠিক সেদিনই জিসান এবং তাহসিন আসে। রিয়াজরা যে বাসে উঠেছিলো,তার ঠিক পিছনেই ছিলো জিসানদের সিট। রিয়াজ জানালার কাছে বসে। তাজকিয়া বসে মাঝে। তাজকিয়ার গায়ে ছিলো একটা শর্ট গেঞ্জি। যেটা পড়লে নাভি আর পেট স্পষ্ট দেখা যায়। জিসান পিছনের সিট থেকে তাজকিয়ার কোমর দেখে যাচ্ছিলো। সাদা চামড়ার নরম কোমর দেখে জিসান কিছুটা দুর্বল হয়ে গেলো। বাস যখন চিটাগং পার হয়,তখন ভোর ৩ টা বাজে৷ সবাই ঘুম। জিসান অনেকবার চেষ্টা করেছে তাজকিয়ার কোমরে হাত দেবার। কিন্তু সাহস করতে পারেনি। তবে বলা যেতে পারে,পুরো জার্নিতেই জিসান তাজকিয়ার কোমর দেখে আসছে। 


বাস থেকে নেমে রিয়াজ যখন হোটেলের রুম বুকিং করতে যায়। ঠিক তখনি তাদের পিছনে ছিলো জিসান এবং তাসহিন।জিসান তখন আবার চোখ দেয় কোমরে৷ কিন্তু এইবার শুধু কোমরেই সীমাবদ্ধ ছিলোনা। তাজকিয়ার পিছনের দিকে চোখ যায়৷ টাইট প্যান্ট পড়েছে তাজকিয়া। যার কারণে জিসান চোখের ইশারাতেই মেপে যাচ্ছে সব।  রিয়াজ যে রুম বুকিং করেছে। জিসানেরও উদ্দেশ্য রুম পাশেরটা বুকিং করবে। রিয়াজ রুম বুকিং করে চলে যায়,এরপর জিসানও ঠিক তাদের পাশের রুম বুকিং করে। রুমে এসে জিসান জানালায় যায়। ওদের ব্যালকনি থেকে রিয়াজদের ব্যালকনি মাত্র ৫ হাত দূরে। জিসান এক মনে ব্যাককনির দিকে তাকিয়ে আছে। তাহসিন ওয়াশরুমে গোসল করতেছে। এদিকে তাজকিয়া গোসল শেষে ব্যালকনিতে জামা এবং চুল শুকাতে আসে৷ গায়ে ছিলো শুধু একটা চাদর। জিসান যেনো হিংস্র জানোয়ারের মত চোখ দিয়েই খেয়ে ফেলতেছিলো তাজকিয়াকে। এরপর পরিচিত হবার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ জিসানের পরিকল্পিত। মদ খাওয়ার সময় সবাইকে মদ্যপান করালেও,জিসান সেদিন মদ্যপান করেনি। সে গ্লাস মুখে নিতো,কিন্তু না খেয়ে মিছেমিছি বোতল উপরে তুলে সেম গ্লাসটা আরেকজনকে পাস করতো। সবাইকে মাতাল বানিয়ে জিসান তাজকিয়াকে টাচ করার সুযোগ নিয়ে নেয়৷ রিয়াজ মাতাল ছিলো,মাতাল ছিলো তাহসিন। ওরা কিছুই দেখতে পায়নি। তাজকিয়াও মাতাল, সে হেলেদুলে শুধু মাতলামি করে যাচ্ছে। জিসান নাচার মাঝে তাজকিয়ার কোমর,পিঠ স্পর্শ করে যাচ্ছিলো। বুক স্পর্শ করবে,তখনি রিয়াজ বমি করে দেয়। আর স্পর্শ করা হয়নি জিসানের। এরপরে জিসান আবার ট্রাই করে রুমে। যখন মাতাল হয়ে রিয়াজ এবং তাজকিয়া রুমে এসে শুয়ে যায়। দরজা লক করতে ভুলে যায় ওরা। জিসান রুমে ঢুকে দরজা অফ করে দিয়েছিলো। এরপর দেখে তাজকিয়া এবং রিয়াজ মাতাল হয়ে শুয়ে আছে। জিসান এই সুযোগে টেবিলের কাছে আসে। মোবাইলে ক্যামেরা অন করে সে ভিডিও রেকর্ড চালু করে। কারণ এই ভিডিও দেখিয়ে সে তাজকিয়াকে যেমন ইচ্ছে নাচাবে। জিসান নিজের প্যান্টের চেইনটা  খোলে। এরপর তাজকিয়ার কাছে এসে দাঁড়ায়। তাজকিয়ার হুশ নেই।  জিসান আস্তে করে আগে তাজকিয়ার গেঞ্জিটা গলা অব্দি তুলে ফেলে৷ এরপর ব্রায়ে হাত দেওয়ার আগেই তাজকিয়া একটু নড়ে উঠে। জিসান ভয় পেয়ে যায়,আর এক দৌড়ে ফোনটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। সেদিন জিসানের অনেক রাগ।সে যৌনসঙ্গমের ভিডিও বানাতে পারেনি। এর পরেরদিন ঘুরাঘুরি করার সময়েও বিভিন্ন কলাকৌশলে তাজকিয়ার দেহে হাত দেয় জিসান। লোভ বেড়ে যায় তাজকিয়ার প্রতি। কিন্তু এর মাঝেই হুট করে কক্সবাজার ত্যাগ করে রিয়াজ আর তাজকিয়া। যেটায় জিসান  প্রায় সাইকো হয়ে গেছিলো। 


এ ছিলো রিয়াজের অজান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনা। তাহলে প্রশ্ন, এই বাচ্চা ছেলেটা কে। আর কে এই বৃদ্ধ লোক এবং অশরীরী মেয়ে।আর রহস্য কিসের এই ১১ঃ২৫ মিনিটের। চলুন পরের ঘটনা শুনে যাই। 


সেদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে তাহসিন রিয়াজদের রুমে যায়। গিয়ে দেখে রুম খালি। তাহসিন কিছু বুঝতে না পেরে জিসানের কাছে যায়। জিসান এখনো ঘুম। তাহসিন জিসানকে কিছুক্ষণ ডাকতে থাকে৷ জিসান ঘুম চোখে উঠে বলল," কি হয়েছে,সকাল সকাল এইভাবে ডাকছো কেন"। তাহসিন বলল," রিয়াজ ভাইয়া আর তাজকিয়া আপু মনে হয় চলে গেছে। ওদের তো রুম খালি"।  কথাটা শুনতেই জিসান লাফ মেরে উঠে। এরপর দৌড়ে রিয়াজদের রুমে চলে যায়। নিজের চোখে দেখলো রুম খালি। তাহসিন খেয়াল করে,জিসানের চোখ লাল হয়ে গেছে রাগে। তাহসিন এখনো বুঝেনি,জিসান কেনো এমন করতেছে। জিসান সেদিন থেকেই একটা সাইকো সাইকো ভাব নিতে থাকে। সব সময় রাগ দেখায়। খেতে বললেও রাগ দেখাবে,আর খেতে না দিলেও রাগ দেখায়৷ ভালো কথা বললেও রাগ,আবার খারাপ কথা বললেও রাগ দেখাবে। তাহসিন বিষয়টা নোটিশ করার পর অনেকটাই হয়রানি হয়৷ তাহসিন বুঝে উঠতে পারছিলোনা সে কি করবে। জিসান এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক নেই। কিন্তু এইভাবেও বেশিদিন যায়নি৷ একদিন ঘটে যায়,অনেক ভয়ানক একটি ঘটনা। 


গ্রামের বাড়িতে ওরা।তাহসিনের বাবা ওদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সাথে আসে তাহসিনের ছোট ভাই আবির। এসে মেয়ের মুখটা দেখে তাহসিনের বাবা কিছুটা বুঝতে পারে। জিসান বাহিরে গেছে। ঘরে তাহসিনকে একা পেয়ে ওর বাবা জিজ্ঞেস করতে লাগলো,

- কি হয়েছে মা? আমি আসার পর থেকেই তোকে কেমন যেনো দেখে যাচ্ছি। তোর মাঝে আগের খুশি আর হাসি নেই। কি হয়েছে?

- বাবা, আমি ভালো নেই। জিসানের মাঝে কেমন যেনো পরিবর্তন এসে গেছে। সে ইদানীং সাইকোদের মত আচরণ করে। আমাকে শুধু শুধু মারধর করে৷ আমি কিছুই বলতে পারিনা ওর সাথে। তোমরা বেড়াতে এসেছো,এইটা জানলেও হয়তো আমাকে মারধর করবে। আমি কি করবো বাবা বুঝিতেছিনা। 


তাহসিনের কথা শুনে ওর বাবাও একটু চিন্তিত হয়ে গেলো। তখনি তাহসিনের ছোট ভাই বলল,

- আপু। এখন ডিজিটাল যুগ। আমার জানামতে দুলাভাইয়ের ফোন চেক করলে সব জানতে পারবি৷ কারণ আজকাল কেও মনের কথা কাওকে না বললেও,তার ফোন দ্বারা বুঝা যায় সে কি চায় বা করতে যাচ্ছে। 

- তোর এতো কম বয়স৷ তুই এসব জানলি কিভাবে।

- রিয়াজ রাজ অফিসিয়াল পেজে একটা লেখা পড়েছিলাম। সেখানে লেখা ছিলো,এখনকার যুগটা খুবি খারাপ। কারো মনের অবস্থা বুঝতে হলে সর্বপ্রথম তার ফোন চেক করা উচিৎ।  কারণ মানুষরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে ফেসবুকে বা টিকটকে। সে যে মনমানসিকতায় থাকে,সে টপিকেই লিখতে বা অভিনয় করতে ভালোবাসে। দুলাভাইয়ের একাউন্ট চেক করলে বুঝা যেতে পারে উনি কি নিয়ে আপসেট। 

- ঠিক আছে। আমি দেখছি। 


বাবা,ভাই,বোনের আলাপের মাঝেই জিসান বাসায় আসে। সবার চোখ হুট করে দরজায় যায়। জিসান তাহসিনের বাবা এবং ভাইকে দেখে চেহারা কেমন যেনো কালো করে ফেলেছে। ভয় পেয়ে যায় তাহসিন। জিসান রাগে গজগজ করে রুমে চলে যায়। কোনো কথা না বলে একটা লুঙ্গি নিয়ে পুকুর ঘাটে চলে যায় গোসল করতে। তখনি আবির বলল," আপু,এইটাই সুযোগ "। তাহসিন দৌড়ে যায় জিসানের রুমে। আবির এবং তাহসিনের বাবাও যায় দেখতে।টেবিল থেকে জিসানের ফোন নেয় তাহসিন। তাহসিন লকটা খুলতেই দেখে,একটা ভিডিও আগে থেকে প্লে করা। লক খোলা মাত্রই অটো আবার প্লে হয়ে গেলো। উপরে ডিটেইলস আছে। ভিডিওটা সকাল থেকে ২৭৩১ বার দেখা হয়েছে। তারমানে জিসান সকাল থেকে বাহিরে বসে এই ভিডিওটাই দেখে সময় কাটিয়েছে। মনোযোগ দিয়ে তাহসিন, আবির আর ওদের বাবা ভিডিও দেখতেছে। সেখানে সেদিন রাতের ঘটনা শো হয়। জিসান চেইন খোলে,তাজকিয়ার কাছে যায়,গেঞ্জি তোলে,এরপরই ব্রায়ে হাত দেওয়ার আগে দৌড় দেয়। তখনি রুমে ঢুকে যায় জিসান। 


তাহসিন ভয়ে ফোনটা হাত থেকে ফেলে দেয়। জিসান নিছে তাকিয়ে দেখে,ওর ভিডিওটা চলতেছে। জিসান গোসল না করেই চলে আসে সাবান  নিতে। কিন্তু এসে দেখে এমন সিন। আবিরও ভয়ে থরথর করে কাপছে। তাহসিন গলা বড় করে বলল,

- তুমি কেমন মানুষ জিসান ছিহ।তারমানে এই কারণে তুমি এতো আপসেট।  আরেকজনের বউয়ের উপর এতো ইন্টারেস্ট তোমার? আমি কোনদিক দিয়ে তোমার অভাব পূরণ করিনি? কেনো করতেছো এমন। 


তাহসিন শুধু কান্না করছে আর কথাগুলো বলতেছে। এখনো বলতেছে, কিন্তু কথা শেষ না হতেই জিসান দেওয়ালে থাকা দেওয়াল ঘড়িটা নিয়ে, তাহসিনের মুখে ঠাসস করে মেরে দেয়। ঘড়ির কাচ তাহসিনের গালে ঢুকে যায়। আবির জিসানকে ধাক্কা দিতে আসলে,জিসান আবিরকে ধরে উপরে তুলে ফেলে। এরপর একটা আছাড় মারে জোরে। আবিরের মাথা ফেটে রক্ত বের হতে লাগলো। তাহসিনের বাবা রাগে চিৎকার দিতে যাবে,তখনি জিসান তাহসিনের বাবার বুকে সজোরে লাথি মারে। বুকে আঘাত খেয়ে সেখানেই মারা যান তিনি। তাহসিনের হুশ আছে, কিন্তু পুরো শরীর অবশ। সে নড়াচড়া করতে পারছেনা। জিসান ঘড়িটা তাহসিনের মুখের উপর ছুড়ে মেরে ঘরের বাহিরে চলে যায়। এরপর একটা পলিথিনে আগুন লাগিয়ে সেটা ঘরের ভিতর ছুড়ে মারে।হুট করে ধাউধাউ করে আগুন লেগে যায় ঘরে। জিসান পাগল হয়ে গেছে। আজ সে পুরোপুরি পাগল হয়ে গেলো। হাসতে হাসতে রাস্তার দিকে দৌড় দেয়। এদিকে ধাউ ধাউ করে জ্বলছে ঘর। ভিতরে তাহসিন সহ সবার দেহ জ্বলছে। তাহসিনের এখনো জ্ঞান আছে। কিন্তু নড়াচড়া করার শক্তি নেই। চোখের সামনে নিছে ঘড়িটা পড়ে আছে। সেখানে সময় ১১ঃ২৫ মিনিট।  কিন্তু ১১ঃ২৫ মিনিটেই দাঁড়িয়ে আছে। আঘাত করায় ঘড়ির ব্যাটারি খুলে যায়। তাই ঘড়ি আর চলছে না।ঘড়ির দিকে তাকানো অবস্থাতেই তাহসিনের দেহ পুড়ে যায়। শেষ হয়ে যায় সবাই। 


সব ঘটনা বৃদ্ধার মুখে শুনে রিয়াজের চোখে পানি চলে আসে। রিয়াজ হাটু ফেলে দিয়ে বসে যায়। আর কান্না করে বলতে লাগলো," এ আমি কি করেছি৷ তাজকিয়াকে যদি ভালো জামা পড়িয়ে রাখতাম। আজ এতো বড় স্টোরি হতোনা"। তখনি মেয়েলি কন্ঠের তাহসিনের আত্মা রিয়াজের সামনে এসে বলতে শুরু করে," এইটাই তো দোষ। বউকে হটনেস অবস্থায় দেখতে চাইলে নিজের রুমে দেখতি। বাহিরে কেন দেখাস৷ তোদের মত জানোয়ারে জন্য হাজার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। বউকে চান্স দেস তোরা,বউয়ের ব্যাক সাইড আর বুক ফুলিয়ে রাস্তায় বের করে হাজার ছেলেকে বিগড়ে দেস। ধর্ষণ হবার আরেকটা কারণ তোদের মত নরপশুরা। নারী, সে'তো পর্দার আড়ালে থাকার জিনিস। তোদের মত স্বামীর কারণেই ওরা এসব দেখাতে সাহস পায়। তোর বেচে থাকার অধিকার নেই" বলেই রিয়াজের গলায় তাহসিন নখ ঢুকিয়ে দেয়। 

রিয়াজের চোখ বড় হয়ে যায়।

গলা দিয়ে চিৎচিৎ করে রক্ত বের হতে থাকে।

গলাকাটা মুরগির মতো সেখানেই ধড়পড় করতে থাকে রিয়াজ৷ কিছুক্ষণ পর অনেকদূর কোনো এক মসজিদে আজান দেয়। মৃত্যুর আগে রিয়াজ আজানের শব্দ শুনে বুঝে গেছে। ১১ঃ২৫ মিনিটের রহস্য শেষ। এখন দুপুর ০১ঃ০০ টা বাজে। এই ১১ঃ২৫ মিনিট কোনো সময় ছিলো না। এইটা ছিলো রিয়াজের জন্য একটি মৃত্যুর ডাক।


[ বউ, বোন,স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা। ঘরে হোক সে যেমন তেমন। বাহিরে তাকে পুরোপুরি ঢেকে রাখার দায়িত্ব নিন৷ আপনার জন্যেও যাতে মৃত্যু না হয়,তাহসিনের মত অন্য মেয়েদের৷ কক্সবাজার আজকাল এমন অনেক দেখা যায়। আর ঢাকা শহরের কথা না'ই বলি। তবুও হয়তো কেও বলবে," my life, my rules ]




*************** সমাপ্ত****************