রাত নয়টায় হসপিটাল থেকে স্ত্রীর প্রেগন্যান্সি রির্পোট নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম । হঠাৎ রাস্তার সমস্ত লাইট অফ হয়ে যায়। সাথে গাড়িটার বন্ধ হয়ে যায়। আমি গাড়ির ভেতর থেকে বাহিরে তাকাতেই সবগুলো লাইট একযোগে অন হয়ে গেল। সাথে গাড়িও স্টাট নিল। এদিকে হোটেল নিচে আমার স্ত্রীকে দেখে চোখ আটকে গেল! আমার স্ত্রী যাকে কি না নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করি। সে অন্য একটা ছেলের সাথে আবাসিক হোটেলে ঢুকছে! হোটেলের নিচে দিনের আলোর মতো সব স্পর্ষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমি পিছু নিতে গিয়েও ফিরে আসলাম! অনেক গুলো মেয়ে সুন্দর করে সেজে -গুজে দাঁড়িয়ে আছ হোটেলের নিচে। ড্রাইভার মেয়েগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।
- এই তুমি গাড়ি চালাচ্ছো না কেন?
-স্যার ওখানে।
- এই তুমি সামনের দিকে তাকিয়ে গাড়ি চালাও।
- জ্বি স্যার।
এদিকে আমার আর বুঝতে বাকি রইল না হোটেলে গিয়ে তারা কি করবে! হোটেলের নামটা একবার পড়ক করে দেখে নিলাম। আর সাথে সাথেই রুদ্ধকে একটা মেইল করলাম। মনটা মুহূর্তে কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল । ড্রাইভার আপন মনে গাড়ি চালাচ্ছে। এদিকে আমার হাতে থাকা নীল শাড়ির দিকে একবার তাকাচ্ছি আরেকবার কথার দিকে। বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। আমার জীবনে আজকে দিনটা ছিল সবচেয়ে খুশির দিন। ডাক্তার যখন বলল, ' আপনি বাবা হতে চলেছেন। তখন মনে হয়েছিল, 'আমার মতো সুখী এ মুহূর্তে আর কেউ নেই হয়তো।কিন্তু এক নিমিষে বাবা হওয়ার আনন্দটা মুহূর্তেই এভাবে বিলীন হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। চোখ থেকে নিজের অজান্তেই কয়েক ফোটা জল নুইয়ে পড়ল কথার প্রেগন্যান্সি রির্পোটের উপর।
খুব কান্না পাচ্ছে। মনে হচ্ছে চিৎকার করে যদি কাঁদতে পারতাম তাহলে হয়তো ভালো লাগত। কথাকে তো ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। তার কোন কিছুর কমতি রাখিনি। তাহলে কথা কেন এমন করলো। এসব ভাবতে ভাবতে গাড়ি বাসায় এসে পৌঁছায়।
'বাসায় দু'বার নক করতেই কাজের মেয়েটা দরজা খুলে দেয়।
- এই জেসি তুই কেন দরজা খুলে দিলি? তোর ম্যাডাম কোথায়? সবটা জেনেও না জানার ভান করলাম।
''স্যার ম্যাডাম তো এশা নামায পড়ে কুরআন পড়ছে''
- কাজের মেয়েটার কথা শুনে চমকে গেলাম! কথা তাও আবার কুরআন পড়ছে? তাহলে হোটেলে আমি কাকে দেখলাম! না কিছু মেলাতে পারছি না। আমি বাসায় ঢুকেই কথার কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পারলাম। কথা আমার আসার শব্দ পেয়ে কুরআন তেলাওয়াত শেষ করে উঠে পড়ল। আমি বিস্মিত নয়নে কথার দিকে তাকিয়ে আছি।
- কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? এভাবে তাকিয়ে না থেকে ফ্রেশ হয়ে আসো। আমি খাবার দিচ্ছি।
- আমি ফ্রেশ হয়ে দেখি কথা খাবার বেড়ে বসে আছে। আমি টেবিলে বসতেই বলল,' আজ আমি তোমাকে খাইয়ে দেয়?'
- মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক জবাব দিলাম। বুঝতে পারছি না কি হচ্ছে আমার সাথে। এদিকে ডিনার শেষ করে শুয়ে আছি। কথা তার মাথাটা আমার বুকের উপর রেখে বললো,' কি হয়েছে তুমি মনমরা হয়ে আছো সেই কখন থেকে? আমি কি কোনভাবে তোমাকে কষ্ট দিয়েছি?
- আমি কথাকে কি বলবো বুঝতে পারছি না।
তাই চুপ করে রইলাম। কথা আবারো বললো, ' রাজ কি হয়েছে? তুমি জানো তো তোমার বুকে ছাড়া আমার ঘুম হয় না। নিজের থেকেও তোমায় বেশি ভালোবাসি। এখন আমায় জড়িয়ে ধরবে না?
- কথাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। কথা ছাড়া আমার আপন বলতে এ পৃথিবীতে কেউ নেই। হোটেলের কথা মনে পড়তেই ভাবলাম, মানুষের মতো মানুষ তো থাকতেই পারে। হঠাৎ মনে পড়ল কথার প্রেগন্যান্সির রির্পোটের কথা। কথাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললাম,' এই শুনছো আমি না বাবা হতে যাচ্ছি। আর তুমি মা।''
'' সত্যি বলছো? এই বলে কথা আমাকে আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। কথাকে বুকে নিয়েই প্রতি দিনকার মতো ঘুমিয়ে গেলাম।
- সকাল বেলা চা খাচ্ছিলাম হঠাৎ কথার চিৎকারে ড্রয়িংরুমে গিয়ে দেখি কথা কাঁপছে।
'' আমি কথার পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই, কথা হাত ইশারা করে টিভির দিকে তাকাতে বললো,' টিভির পর্দার দিকে তাকাতেই শরীরটা কেমন যেন ঝাকি দিলো। টিভিতে সকাল নয়টার খবরে দেখাচ্ছে কাল রাতে নিশিপুর এক বাড়িতে দশ জনের মৃত্যু একজনেরো মাথা নেই! এলাকার সবাই সে বাড়িটিকে ভূতুরে বাড়ি নামেই চিনতো। সবাই ভাবছে পেতাত্মারা এসব কাজ করছে। খবরটা দেখে যতটা না অবাক হলাম তার চেয়ে বেশি অবাক হলাম যখন খবর উপস্থাপিকা বললো,' পুলিশ নিহতদের আইডেন্টিফাই করেছে পকেটে থাকা আইডি কার্ড দেখে। নিহতরা হচ্ছেন, আদিত্য, রুদ্ধ! রুদ্ধ নামটা শুনে বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে ওঠলো।আর বাড়িটাও খুব চেনা মনে হচ্ছে, কাল রুদ্ধকে আমিই ইমেইল করে কথার বিষয়ে জানতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু একরাতের মাঝেই আবাসিক হোটেল, ভূতুরে বাড়ি কিভাবে হলো? আর হোটেলের ফলকটাও তো দেখা যাচ্ছে না। কিছু ভাবতে পারছি না। রুদ্ধর মতো বিশস্ত লোক হারাবো এটাও মেনে নিতে পারছি না। কথা এখনো আমার পাশ থেকে ভয়ে কাঁপছে। এই কথা এভাবে কাঁপছো কেন?
'' কথার আমার বুকে মুখ লুকিয়ে বললো,' রাজ সত্যি শহরে ভূত এসেছে? আমার কিন্তু ভয় করছে। তুমি আর রাত করে বাড়ি ফিরো না। তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি কিভাবে বাঁচবো?
'' কথার কপালে আলতো করে চুমু এঁকে দিয়ে বললাম,,' আরে পাগলী তুমি ভয় পাচ্ছো কেন? আমার কিচ্ছু হবে না। আর তুমি তো নামায রোযা সবি করো। তোমার তো ভূত ভয় পেলে চলবে না।
'' তা হলেও আমার ভয় লাগে। ''
- আচ্ছা আর টেলিভিশন অন করো না। যাও এক কাপ চা নিয়ে আসো। ''
- আচ্ছা যাচ্ছি।
- কথা চলে যাওয়ার সাথে সাথেই আমার ফোনটা বেজে উঠল। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে এলিক্স বললো,' ভাইয়া কাল রাতে আপনি যে রুদ্ধকে হোটেলে পাঠিয়েছিলেন। সেটা নাকি হোটেল ছিল না ভূতুরে বাড়ি ছিল। হুম আমি জানি।
- আচ্ছা ভাই আরেকটা কথা, ' আপনার কাছে একটা পার্সেল এসেছে। সাথে দশ লাখ টাকার অফার। আপনি একটু আসেন হোটেলে।
- আচ্ছা আমি আসছি। ফোনটা কেটে পিছনে তাকাতেই কথা বললো,' এই নটো তোমার চা।'
আমি চা টা শেষ করেই চলে গেলাম হোটেলে। হোটেলে পৌঁছা মাত্রই এলিক্স একটা পার্সেল দিল। উপরে ছোট্ট একটা চিরকুট। চিরকুটে লাল কালিতে লিখা, পার্সেলের ভিতরে একজনের ছবি আছে তাকে খুন করতে হবে। পাঁচ লাখ টাকা এ্যান্ডভার্স দিয়েছি বাকিটা কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে পার্সেল পেয়ে যাবে। আমি কিছু না ভেবেই পার্সেল টা খুলছি আর ভাবছি আজ-কাল তো একজন মানুষ মারতে এক লাখ টাকাই বেশি। সেখানে দশ লাখ টাকা। ভাবতে ভাবতে পার্সেলটা খুলে ফেললাম। পার্সেলের ভিতরে একটা ছবি। ছবিটা দেখে চমকে গেলাম! শরীরটা ঘেমে যাচ্ছে। কারণ পার্সেলের ভিতরে ছবিটা যে অন্য কারো নয় আমার।
চলবে'''''''''

0 Comments