সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো, জেসির চিৎকারে। জেসি দৌড়ে এসে বললো,' ভাইয়া কালকে যে আপনারা যার বিয়ে খেয়ে আসলেন। তাকে নাকি পেত্মাতারা মেরে ফেলছে। ফুলশর্য্যা বিছানায় নাকি তার দেহ আর মাথাটা নাকি নিশি পুরের সে ভুতূরে বাড়ির গেটের সামনে ছিল। দেখে যান টিভিতে দেখাচ্ছে।
- জেসির কথা শুনে শরীরটা অবশ হয়ে আসছে। আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কথা মাথা ঘুরে পড়ে গেল। রাজ কোনরকম কথাকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দিল। এদিকে জেসি কথার মা-বাবাকে ফোন করে কথার বিষয়ে বললো।
- পরের দিনই কথার বাবা মা কথাকে দেখতে এসে পড়ে।
- এদিকে রাজ কিছুতেই ভাবতে পারছে না। কি হচ্ছে এসব। প্রথমে আদিত্যকে মারলো। তারপর এলিক্স! একে একে তার দলের সবাই রহস্যজনকে ভাবে মারা গেল।
- হঠাৎ রাজকে কে যেন বললো,' বাবা কেমন আছো? তোমাকে মনমরা লাগছে। ''
- রাজ তার শ্বশুরকে দেখে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়। রাজের শ্বশুরের বয়স আশি ছুঁই ছুঁই! মানুষটা বড্ড ভালো। কথা -বার্তা একদম নরম স্বভাবের।
- বাবা মন খারাপ থাকলে নামায পড়বে আল্লাহ সবঠিক করে দিবে।
- রাজ মাথা নাঁড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিল! সাইফ সাহেব রাজের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল। কথা এখন অনেকটা সুস্থ আগের মতো ভয় পায় না।
- এদিকে রাজের দলের সব সদস্য মরে গেছে। কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি সে। শহর জুরে একটা চাঁপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবাই খুব ভয়ে আছে। সবার ধারণা অতৃপ্ত আত্মারা করছে। পুলিশ শহরে যেসব খুন হচ্ছে তার কোন ক্রো পাচ্ছে না।
- কয়েক মাস পর কথা একদিন রাজকে বললো,' চলো আমরা আজ একটু ঘুরতে যাই। ''
- আচ্ছা কোথায় যাবে বলো তো?
- আজ আমরা শহর ছেড়ে গ্রামে যাবো। নিশ্চিতপুর গ্রামে। সেখানে সুন্দর নদী আছে। মাঠ আছে।
- আচ্ছা ঠিকআছে। কথা রাজকে নিয়ে বেড়াতে যায়। গ্রামের পর গ্রাম পেরিয়ে নিশ্চিতপুর গ্রামে এসে যায়। গ্রামটা নামের মতোই। তবে বসতবাড়ি কম। গ্রামের পাশ দিয়ে নদী বয়ে গিয়েছে। কথা রাজকে নিয়ে নদীর পাড়ে যায়। নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়াতেই রাজের মাথায় কে জানে বারি দেয়। রাজের আর কিছু মনে নেই!
- রাজের জ্ঞান ফিরে নিজেকে হাত -পা বাঁধা আবিষ্কার করে। তার পাশে কথাকে দেখতে পায়। কথার হাত-পা বাঁধা।
- এমন সময় জেসি ভিতরে প্রবেশ করে, বললো,' কি গো দুলাভাই হাত-পা বাঁধা খুব কষ্ট হচ্ছে? আপার বাঁধন খুলে দেয়?
- জেসি কথার হাত -পা খুলে দিতেই কথা চেয়ার টেনে রাজের সামনে বসল!
- কিরে রাজ, তোর কি রকম মৃত্যু পছন্দ?
-রাজ অনেকটা অবাক হয়ে যায়। কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,' কথা এতোগুলো খুন তুমি করেছ? '
- হাহা কি মনে হয়?
- মরার আগে সত্যিটা জেনে যাও, প্রথম যেদিন হোটেলের সামনে আমাকে দেখেছিলে সেদিন ভূত নয় আমাকেই দেখেছিলে। ড্রাইভার ইচ্ছা করে তোমাকে ভূতুরে বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে গিয়ে ছিল। আর বাড়ির সামনে সবকিছু আমি আর জেসি প্ল্যান করে করেছি। তোমার সমস্ত লোককে আমরা প্ল্যান করে মেরেছি। কেন মেরেছি জানো?
মনে করে দেখো আজ থেকে ১২ বছর আগে এই বাড়িতেই আমার বাবা-মাকে তুই মেরেছিস। সেদিনের পর থেকে একটি রাতও ঘুমাতে পারিনি। তাই তোর সব গোপন নেটওয়াক জানার জন্য তোকে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করি। আর তোর দলের সবাইকে আমার বাবা -মাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল সেভাবে হত্যা করি। এখন বল তোর কিভাবে মরার ইচ্ছা?'
- মৃত্যুটা বিষপানে চাই! আর মরার সময় শেষবারের মতো একটিবার তোমার বুকে যেতে চাই। ''
- আহালে আপু দেখ তরে ইমুশনাল ব্ল্যাকমেল করছে।
- চুপ কর জেসি! ওর মতো জানুয়ারের প্রতি আমার ভালোবাসা? হাস্যসকর। এই বলে দুধের গ্লাসে বিষ মিশিয়ে কথা রাজের মুখের দিকে বিষ মেশানো দুধের গ্লাসটা বাড়িয়ে দিল। রাজ মুচকি হেসে গ্লাসের অর্ধেক দুধ খেয়ে নিল। আর বাকি দুধটুকু না খেয়ে কথার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,' রেখে দাও কাজে লাগবে।''
-দুধ খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই রাজের মুখ দিয়ে রক্ত আসতে লাগলো। জেসি আর কথা আনন্দের হাসি হাসতেছে।
- এমন সময় রাজ বলল, ' কথা আমাকে একটু বুকে নিবে? '
- কথা এবার কি যেন ভেবে রাজের হাতের বাধন খুলে দিয়ে একটানে রাজকে বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। রাজের খুব ভালো লাগছে এভেবে মৃত্যুটা ভালোবাসার মানুষের বুকে হচ্ছে! হঠাৎ কথা রাজের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়! রাজ ওহ্ করে ওঠলে মুখটা চেপে ধরে। চিড়িক দিয়ে রাজের শরীর থেকে রক্ত বের হতে লাগে। এবার কথা আরো শক্ত করে রাজকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বলে,' এই দেখ তোকে বুকে নিয়েছি। আমার বাবার হত্যাকারীকে বুকে নিয়েছি! কথাটা বলে রাজকে ধাক্কা দিয়ে ফ্লরে ফেলে দেয়। রাজ এবার একটু জুরেই হেসে দিয়ে পকেটে থাকা একটা চিরকুট বের করে কথার দিকে বাড়িয়ে দেয়।
- কথা চিরকুট টা হাতে নিয়ে পড়তে থাকে,'
" জানো কলিজার টুকরা ছোট থাকতেই বাবাকে হারিয়েছি। একটু বড় হতেই একদল নরপশু আমার মায়ের সতিত্ব হরণ করে মেরে ফেলে। তারপর থেকেই আমি সাইলেন্ট কিলার হয়ে যায়। বিশ্বাস করো আমার জীবনে আমি একটি ভালো মানুষকেও মারিনি। সমাজের জঘন্য ব্যক্তিদের জঘন্য মানুষেরাই আমাকে দিয়ে খুন করিয়েছে। আর তোমার বাবা এবং মাকে মেরেছে সাইফ সাহেব। তার প্রমাণ তুমি তোমার ভ্যানেটি ব্যাগ খুললেই পাবে। আর শোন আমাকে তুমি কি মারবে? তুমিতো আমাকে আগেই মেরে ফেলেছ। আমার বিশ্বাস নষ্ট করে আমার আত্মার মৃত্যু অনেক আগেই ঘটিয়েছ। তুমি যদি একবার বলতে আমি হাসতে হাসতে আমার জীবনটা দিয়ে দিতাম। জানো আমার এ পৃথিবীতে আপন বলতে একমাত্র তুমিই ছিলে, আর সেই তুমিই যখন আমাকে মারার প্লান করলে, আমি কিভাবে সে প্লান নষ্ট করি? তোমাকে ভালোবেসে স্বেচ্ছায় জীবনটা দিয়ে দিলাম। আর হ্যাঁ জীবনে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম তোমার প্রেগন্যান্সির কথা শুনে!
আর হ্যাঁ তোমার বাবার হত্যাকারী সাইফ চৌধুরীকে নিজ হাতে খুন করেছি। আর হ্যাঁ তোমাদের নাটকটা সেই ছিল!
- কথা চিঠিটা পড়ে তার ভ্যানেটি ব্যাগ খুলেই তার মা-বাবার হত্যার কিছু ছবি দেখতে পায়। কথা ছবিতে দেখে যে সাইফ চৌধুরী যাকে তারা বাবা বানিয়েছিল সে তার মা -বাবাকে খুন করছে। ছবিটা ফেলে দিয়ে কথা রাজকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। কিন্তু না কথার কান্না আর রাজ শুনবে না!
- কথার কাছে এবার রাজের সে কথাটি মনে পড়ে,' বাকি দুধ টুকু রেখে দাও কাজে লাগবে।' কথা আর দেরী না করে গ্লাসের বাকি দুধটুকু খেয়ে নেয়।
- আপু তুমি এটা কি করলে?
- বোন তুই ভালো থাকিস। কার জন্য বাঁচবো? যে পাগলের মতো ভালোবাসলো তাকেই খুন করলাম। কথা রাজকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। সাথে সাথে বাড়িটা বাস্ট হয়ে গেল! কিছু বুঝার আগেই সবকিছু মাটির সাথে মিশে গেল!
কারণ সাইফ সাহেব কথা আর জেসিকে মারার জন্য টাইম বোম সেট করে রেখেছিল! যা রাজও জানতো না।
#সমাপ্ত।
সবার আগে গল্প পেতে নিচের পেইজটি ফলো দিয়ে রাখুন

0 Comments