গাড়ি এক বিরাট বাড়ির সামনে এসে থামলো।এত বড় বাড়ি😯।চকচক করছে পুরো বাড়িতে।চারু একদৃস্টিতে তাকিয়ে আছে।হঠাৎ আনাফ বলল.....

------কী হলো নামেন!

চারু হচকিয়ে যায় এই কথা শুনে।কাপা কাপা কন্ঠে বলে জ্বী জ্বী!!

চারুরা সবাই গাড়ি থেকে নামে।বাড়ির ভিতরে ঢুকে সবাই।চারু যতো আগাচ্ছে ততো অবাক হচ্ছে,কত বড়,সুন্দর বাড়ি।চারুকে আনাফের রুমে নিয়ে বসানো হয়।চারু পুরো রুমটা ঘুরে দেখে।অনেক বড় রুম।সাথে বারান্দা।বারান্দা টা চারুর অনেক পছন্দ হয়েছে💕।চারু কী করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছেনা।অনেক আনইজি ফিল হচ্ছে ওর😖😨।

-----চারু........

চারু নিজের নাম শুনতেই পিছনে ফিরে তাকায় দেখে আনাফের মা ডাকছে তাকছে😑।চারু কাপা কাপা গলায় বলল,,,,,

চারুঃজ্বী,বলেন

মাঃআমি তোমার কী হই?

চারুঃশাশুড়ি!!

মাঃতাহলে আমাকে মা বলে ডাকবে কেমন?

চারুঃআচ্ছা😊।

মাঃশুনো এখন থেকে আনাফকে দেখে রাখার দায়িত্ব তোমার।ওকে কখনো কস্ট দিও না🙂।ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলেটা একা একা বড় হয়েছে।দেখতে পায় না,একা একা থাকতো।আমি তোমাকে বিশ্বাস করু।আমি জানি তুমি আমার বিশ্বাস ভাংগবে না।

চারুঃআমি আমার যথাসাধ্য চেস্টা করবো!আচ্ছা একটা কথা জিগ্যেস করি?

মাঃসিউর!

চারুঃআচ্ছা উনাকে কেউ চোখ দিলো না?আপনারা বিভিন্ন হাসপাতালে খুজতেন পেয়ে যেতেন।

মাঃনারে মা অনেক খুজেছি😥।পাইনি!পেলেও ওর ব্লাডের সাথে মিলেনা।ওর ব্লাড গ্রুপ এবি-🥺।

চারুঃবলেন কী!! আমারও তো এবি-☺

মাঃতাই নাকি☹।আচ্ছা আমি এখন আসি।কিচ্ছুক্ষন পর আনাফ আসবে রুমে🥰।

চারুঃআচ্ছা।

এই বলে উনি চলে যান। চারু বসে থাকে একা একা।কিচ্ছুক্ষন পর  আনাফ আসে রুমে।শবনম মানে আনফের বোন এসে রুমে দিয়ে যায়।আনাফ কে খাটে বসিয়ে চলে যায় শবনম।

আনাফঃতুমি কী জানো আমি দেখতে পাই  না!

চারুঃহ্যা জানি!

আনাফঃতাহলে জেনেশুনে কেনো বিয়ে করলে আমাকে?কেনো জেনেশুনে নিজের জিবন নস্ট করলে?

চারুঃ.........(নিশ্চুপ)

আনাফঃআচ্ছা বাদ দাও।আচ্ছা ছাদে যাবে?আজকে আকাশটা অনেক সুন্দর।

চারুঃআপনি কিভাবে দেখলেন😯?

আনাফঃহাহাহাহা😅😅।আমি কীভাবে দেখবো?ফিল করেছি🙂।

চারুঃঅহহ আচ্ছা।চলেন যাই😚

আনাফ কে দুহাত দিয়ে ধরে চারু নিয়ে যায়।সিড়ির সামনে এসে আনাফ বলে আমি  আর যেতে পারবো।ছেড়ে দাও।.....

চারুঃআজব তো!!সরেন আমি নিয়ে যাবো।

আনাফঃছাড়ো আমাকে আমি যেতে পারবো।

চারুঃজেদ ধরবেন না! 

আনাফ একপ্রকার জোর করে চারুর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠতে শুরু করে।টার্গেট করে ৩-৪ সিড়ি উঠতে পারে।আর বাকিগুলো উঠতে নিলেই পা পিছলিয়ে পড়ে যায়।চারু দৌড়ে আসে। 

চারুঃদেখলেন তো?পড়ে গেলেন। বলেছিলাম না।ভালো কথা কানে যায় না।😕😡।এখন মাকে আমি কী বলবো??????

আনাফঃআগে তো আমাকে তুলো🙁😒।।

চারু অনেক কস্টে টেনে আনাফকে মাটি থেকে তুলে। এরপর নিচে চলে যায়।রুমে নিয়ে আসে।

চারুঃআরে আপনার পা তো মচকে গেছে।খুব ভালো হইছে।না পারলাম ছাদে যাইতো।বজ্জাত কোথাকার।

জোরে শব্দ করে হেসে দিলো আনাফ।চারুর রাগ সপ্তম আকাশে আনাফের হাসি দেখে।রাগে গজগজ করে আনাফকে বলে,, 

-----খুব হাসি হচ্ছে না?? সরেন, আমি ঘুমাবো😡।

-----ইসস তোমার মুখের হাসিটা যদি দেখতে পারতাম।

আনাফের মুখে এমন কথা শুনে চারুর রাগান্বিত মুখ নিমিশেই ফ্যাকাসে হয়ে যায়।চারু আর কিছু না বলে আনাফকে ঘুমিয়ে যেতে বলে।আনাফও ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়।।চারু ওয়াশ্রুমে ঢুকে ফ্রেশ হতে।

চারুঃধুর ছাই☹।কারো বাথরুম এত্ত বড় হয় নাকি।মনে হচ্ছে আস্ত একটা হাতি🥴।আমাদের বাড়ির দুই রুম মিলেয়ও এত্ত বড় হবে না।উফফফ এখানে তো যে কেউ সংসার করতে পারবে সুখে শান্তিতে😒।ধুর ভাল্লাগেনা,এখানে কী আমি দৌড়াদৌড়ি করবো?🤦‍♀।আল্লাহ তুমি রহম করো যে এই বাথরুম টা বানাইছে🤦‍♀।(মনে মনে)

চারু বকবক করতে করতে  বের হলো🤦‍♀।দেখে আনাফ ঘুমাই গেছে।চারু ও ঘুমিয়ে পড়বে ভাবে।কিন্তু কই ঘুমাবে সে?

চারুঃআচ্ছা আমি কই ঘুমাবো?আমি কী উনার পাশে গিয়ে শুবো?না না,,,🤦‍♀।আমার তো লজ্জা করে। কোথায় যে ঘুমাই☹।

চারু এদিক-ওদিক তাকায় দেখে পাশেই একটা সোফা আছে🤩।

----এই তো পেয়েছি এই সোফায় ঘুমাবো।

একটা বালিশ এনে ঘুমিয়ে পড়ে চারু।.

ফজরের আজান শুনে চারুর ঘুম ভাংগে।আড়মোড়া ভাংতে ভাংগতে উঠে চারু।বারান্দায় যায় চারু।

বারান্দায় শীতল হাওয়া বইছিলো।চারুর মন ভরে যায়।

চারুঃইশসসস এক কাপ চা/কফি হলে  অনেক ভালো হতো!😒😒😒কিন্তু আমি এখানকার রান্নাঘর কিছুই তো চিনি না জানিনা।কিভাবে বানাবো😒।(মনে মনে)

চারু বারান্দায় দাড়িয়ে  চোখ বুজে শীতল হাওয়া মন ভরে অনুভব করতে থাকে।কিচ্ছুক্ষন পর চারু ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়তে যায়।নিজের নামাজ পড়া শেষে আনাফ কে ডাকতে যায়।আনাফের ঘুমন্ত শান্তশিষ্ট চেহারা দেখে আর ডাক দেয় না। ভাবে সকালে উঠে পড়ে নিবে💗।

এরপর চারুও ঘুমিয়ে পড়ে।


সকালে❤.........